চাকমাঘাট: তেলিয়ামুড়ার (Teliamura) চাকমাঘাট নৌকাঘাটে (Chakmaghat Boat Ghat) উন্নয়নের স্বপ্ন কার্যত ভেঙে চুরমার। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচে নির্মিত প্রকল্প এখন অবহেলায় উপেক্ষিত। পরিত্যক্ত। তালাবদ্ধ বনদপ্তের বিট অফিসও। ফলে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। পর্যটনের বিকাশ ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে গড়ে তোলা এই প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা দেখে হতাশ সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুন: প্রতীক্ষার অবসান, ধর্মনগরের বিধায়কের উদ্যোগে বাংলা বাজারের সামনে হাল ফিরছে কদমতলা-রানিবাড়ি সড়কের
২০২৪ সালের মার্চ মাসে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নৌকাঘাটের উদ্বোধন করা হলেও বর্তমানে সেটি কার্যত পরিত্যক্ত। ভেঙে পড়া গাছের কারণে ঘাটের একাংশ ব্যবহার অনুপযোগী। নদীর ধারে পড়ে থাকা নৌকাগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন অবস্থায় পরিত্যক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌকা ভাড়ার অতিরিক্ত মূল্য এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যায়।

সরকারি ব্যাপক অর্থ খরচ করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও, দুই বছর যাবত তা পুরোপুরি বন্ধ, বলে জানালেন স্থানীয় ওই সচেতন নাগরিক। যেহেতু সরকারি অর্থ খরচ করে এই প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছিল, সুতরাং তা চালু রাখা আবশ্যক, বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: চাকুরির অপেক্ষা না করে পদ্মফুল চাষেই স্বাবলম্বী শান্তিরবাজারের শুভঙ্কর
অন্যদিকে পাশের ফরেস্ট বিট অফিসে দিনের বেলায় কর্মীদের অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন কোটি টাকার প্রকল্প চালুর আগে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহন করা হলো না? উদ্বোধনের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে নেবে? জনসেবার জন্য নির্মিত অফিস যদি অধিকাংশ সময় বন্ধই থাকে, তবে এর প্রয়োজনীয়তা কোথায়?
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবিলম্বে প্রকল্প দুটির বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। অন্যথায় উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে গড়ে ওঠা এই অবকাঠামো ভবিষ্যতে সরকারি অর্থ অপচয়ের নজির হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: অভিষেক দেবরায়ের নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হবে দল, আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা
