তেলিয়ামুড়া: মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুতের বিল নিয়ে প্রশ্ন করেও জবাব মেলেনি। বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে এসেও চরম ভোগান্তি পোয়াতে হয়েছে। এর জেরে সোমবার তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগম কার্যালয়ের আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন গ্রাহকরা। আগামী দিনে রাস্তায় নেমে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিলেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিদ্যুতের প্রিপেইড রিচার্জে অস্বাভাবিক হারে ইউনিট কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যেখানে আগে ৫০০ টাকার রিচার্জে ৭০ থেকে ৮০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যেত, সেখানে বর্তমানে একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও মাত্র ১০ থেকে ১৫ ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বহু গ্রাহক। ফলে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ মানুষের সংসারে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু, অস্বাভাবিক ইউনিট হ্রাসের কারণ জানতে চাইলে বিল কাউন্টারে কর্তব্যরত কর্মী হরিদাস সাহা কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। বরং তিনি সরাসরি এই বিষয়টির জন্য তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের সিনিয়র ম্যানেজার উৎপল করের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলারও পরামর্শ দেন। অভিযোগ, অফিসে উপস্থিত বহু গ্রাহক সংশ্লিষ্ট কোনও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের দেখা পাননি। সবাই সরকারি বৈঠকে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানানো হয়।
বিদ্যুৎ নিগমের অফিসে দুটি বিল কাউন্টার থাকা সত্ত্বেও মাত্র একটি কাউন্টার চালু থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় গ্রাহকদের। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নারী, পুরুষ, প্রবীণ নাগরিক সকলকেই একসঙ্গে ভিড়ের মধ্যে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মহিলা বা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আলাদা কোনও লাইন না থাকায় পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শত শত মানুষ যখন ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে একটি মাত্র পাখার নিচে দাঁড়িয়ে পরিষেবা পাওয়ার অপেক্ষা করছেন, তখন অধিকাংশ আধিকারিকের কক্ষ ফাঁকা থাকলেও সেখানে পাখা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নির্বিঘ্নে চলতে দেখা যায়। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের টাকায় পরিচালিত সরকারি দপ্তরে যদি ন্যূনতম পরিষেবা ও জবাব দেওয়ার লোক না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এই ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। বরং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের এখন একটাই দাবি, অবিলম্বে ইউনিট কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। বিল জমার পর্যাপ্ত কাউন্টার চালু করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই ধরনের উদাসীন আচরণ বন্ধ করতে হবে। না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
