আগরতলা: ২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশজুড়ে গোহত্যা বন্ধ করার দাবি বারবার তুলেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। এবার কুরবানির ঈদের আগে সেই দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে ভারতের বিভিন্ন জায়গায়। বিজেপি শাসিত রাজ্য়গুলিতে নানা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। যার জেরে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে চলছে তুমুল বিতর্ক।
এর মাঝেই আজমের শরিফ দরগার প্রধান ও লখনউের ইসলামিক সেন্টার অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান গোহত্যা বন্ধের পক্ষে সওয়াল করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার। এবার সেই দাবিই জানানো হল ত্রিপুরা প্রান্তের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাখার পক্ষ থেকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য মিছিলের কর্মসূচি কাটছাঁট করলেও এই বিষয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠকের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হল।
আরও পড়ুন: দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ ধর্মনগরের মৃত কাউন্সিলরের মা
এপ্রসঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ত্রিপুরা প্রান্তের সংগঠন মন্ত্রী শঙ্কর রায় জানান, গোহত্যা বন্ধ ও গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিতে ত্রিপুরার আটটি জেলাতেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম ত্রিপুরার পুলিশ সুপারের কাছেও মিছিল করে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কর্মসূচিতে কাটছাঁট করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গোহত্যা বন্ধ ও গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির পাশাপাশি সমর্থন করছেন অনেক শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মুসলিমও। তাঁদের কথায়, হিন্দুরা যখন গরুকে মা হিসেবে সম্মান দিচ্ছেন তখন মুসলিমদেরও এই ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানানো উচিত। কারণ, ঈদে যে গরুকেই কুরবানি দিতে হবে এরকম কোনও বিধান ইসলাম ধর্মে নেই বলেই তাঁদের দাবি। তাই বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধের পরিবেশ তখন হিন্দুদের সঙ্গে গরু নিয়ে অযথা লড়াই না করে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকারই আহ্বান জানাচ্ছেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মুসলিমরা।
আরও পড়ুন: প্রতীক্ষার অবসান, ধর্মনগরের বিধায়কের উদ্যোগে বাংলা বাজারের সামনে হাল ফিরছে কদমতলা-রানিবাড়ি সড়কের
