শান্তির বাজার: পড়াশোনা করে চাকরির ইঁদুর দৌড়েই ব্যস্ত থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু, তার মধ্যেই ব্য়তিক্রম হন কয়েকজন। স্বনির্ভরতার পথে হেঁটে তৈরি করেন নতুন ইতিহাস। তারই জ্বলন্ত উদাহরণ হলেন শান্তিরবাজার মহকুমার রাধাকিশোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার যুবক শুভঙ্কর দেবনাথ। পেশায় কৃষক বিমল দেবনাথের ছেলে শুভঙ্কর এমএসসি পাশ করেও সরকারি চাকরির পিছনে না ছুটে নিজের স্বপ্নকে বেছে নিয়েছিলেন। মাত্র পাঁচশো টাকায় দুটি পদ্মচারা কিনে শুরু হয়েছিল তার সংগ্রামের পথচলা।
আগরতলার মধ্য ডুকলির ঘোষপাড়ার মেড্ডা চৌমুহনীর শিব কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় লিজ নেওয়া দেড় কানি জমিতে আড়াই বছর ধরে জল পদ্ম ফুল চাষ করে আজ তিনি স্বাবলম্বী। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন প্রায় দশজন কর্মী। কারও বেতন ছয় হাজার, আবার কেউ পাচ্ছেন মাসিক ৮-১০। সর্বাধিক পনেরো হাজার টাকা পর্যন্ত। পদ্মফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে আজ জড়িয়ে রয়েছে বহু পরিবারের হাসি আর জীবিকার আশ্বাস। মাসে গড়ে প্রায় এক লক্ষ টাকা আয় করে শুভঙ্কর প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাফল্যের দরজা একদিন খুলবেই। ডুকলি কৃষি মহকুমা দপ্তরের এস এ দেবব্রত পালের সার্বিক সহযোগিতা ও সরকারি সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জানিয়েছেন শুভঙ্কর।
শুভঙ্করের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন স্ত্রী স্নেহা ধর। ঘর সংসার ও ছোট্ট ছেলেকে সামলে স্বামীর সঙ্গে কাজে হাত লাগান তিনিও। বহু কষ্টের পর স্বাবলম্বী হয়ে সরকারি চাকুরীর মুখাপেক্ষী না থেকে নতুন প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের কৃষিকাজে সামিল হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন শুভঙ্কর। বিকল্প চাষ করে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার বার্তা দিচ্ছেন। আসলে তিনি নিজেই চাকুরির অপেক্ষায় না থেকে জলপদ্ম ফুল চাষেই স্বাবলম্বী জীবনের নতুন ইতিহাস লিখেছেন। তাই অন্যদেরও সেই পথে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। যা অনুপ্রাণিত করছে আরও অনেকেই।
আরও পড়ুন: জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ শিবির ঊনকোটিতে, উপকৃত প্রায় ২৬ হাজার মানুষ
