কমলপুর: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও দূষণমুক্ত মনোরম পরিবেশের জন্য ত্রিপুরা আগাগোড়াই জনপ্রিয়। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন স্থানকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করে উন্নয়নের মাধ্যমে গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটন স্থল। পাশাপাশি পুরনো ও ঐতিহ্যবহী পর্যটন স্থলগুলিতেও অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে পর্যটকদের আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। যার সুফল মিলছে হাতে-নাতে।

এর মাঝেই প্রকৃতির বুকে গড়ে ওঠা কৃষ্ণচূড়ার লালিমায় মোড়া বড়সুরমা গ্রামকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন ধলাই জেলার কমলপুরের বাসিন্দারা। সবুজে ঘেরা প্রকৃতির বুক চিরে যেন আগুনরাঙা আবেগ ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে কৃষ্ণচূড়ার সারি। বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত, নদীর পাড়ের শান্ত সৌন্দর্য আর নির্মল বাতাস, পাশে দীর্ঘ কমলপুর সুরমা-বাংলাদেশ সীমান্তের আঁকাবাঁকা কাঁটা তারের বেড়া। সব মিলিয়ে বড়সুরমা এখন যেন এক জীবন্ত ছবির নাম।
আরও পড়ুন: অবৈজ্ঞানিকভাবে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ, খোয়াইয়ের বড়বিলে ঝড়ে গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি
ফলে বিকেল নামলেই এখানে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমীরা। স্থানীয় মানুষদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও আসছেন অনেকে। শুধুমাত্র এই নয়নাভিরাম দৃশ্যের মোহে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করেন সুরমা এলাকার বিধায়িকা স্বপ্না দাস পাল।
চাষের জমিতে জমছে বৃষ্টির জলপ্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এই এলাকা ঘুরে দেখে তিনি বলেন, আগামী দিনে বড়সুরমাকে আরও আকর্ষণীয় ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যটনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজও করা হবে। সবার কাছে একবারের জন্য হলেও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই স্থানটি ঘুরে দেখার আবেদন জানাচ্ছি।
প্রকৃতির রঙে রাঙানো বড়সুরমা এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে কমলপুরের নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নয়নের মাধ্যমে একদিন এই স্থান পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ জায়গা করে নেবে। আর কৃষ্ণচূড়ার লালিমায় মোড়া বড়সুরমা হয়ে উঠবে প্রকৃতি প্রেমীদের অন্যতম প্রিয় ঠিকানা।
