আগরতলা: প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল আগরতলার আই জি এম হাসপাতালে। ৩৪ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর নাম বিভা দেবনাথ। আমতলীর বাইপাস রোড এলাকায় স্বামী পঙ্কজ দেবনাথের সঙ্গে বসবাস করতেন। মৃত ওই গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার প্রসূতি বিভাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়ে ছিল। কিন্তু, ঈদের ছুটির কারণে সেখানে কোনও সিনিয়র ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। শুধুমাত্র জুনিয়র চিকিৎসকদের দিয়েই রোগী দেখা হচ্ছিল। ফলে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়াতেই বিভার মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনায় আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়ে সরব হয়েছেন মৃতার নিকটাত্মীয়া। কোনও সিনিয়র চিকিৎসক কেন উপস্থিত ছিলেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই ঘটনাকে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ালে খবর পৌঁছয় পুলিশের কাছে। পরে পশ্চিম মহিলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রসূতি মৃত্যুর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য কি সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিত থাকা উচিত ছিল না? শুধুমাত্র জুনিয়র ডাক্তারদের ভরসায় কেন চালানো হচ্ছিল চিকিৎসা পরিষেবা? যেভাবে রাজ্যের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে তাতে কি সরকারের ভাবমূর্তিতে দাগ পড়বে না? মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার যখন রাজ্যের মানুষকে অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তখন এই ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা কাম্য নয়। এখন ঘটনাটি কী হয়েছে তা খতিয়ে দেখে কী পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দপ্তর নেয় সেটাই দেখার।
আরও পড়ুন: আগরতলা-শিলচর রুটের ট্রেনের স্টপেজের দাবি, অবরোধে উত্তাল পানিসাগর রেল স্টেশন
