পানিসাগর: দীর্ঘদিন ধরে পানিসাগর স্টেশনে আগরতলা-শিলচর রুটের ট্রেনগুলির স্টপেজ চাইছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার রেল দপ্তরে ডেপুটেশনও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, কোনও কাজ হয়নি। এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিনব উপায়ে দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ করলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। দুপুর ২টা নাগাদ ১৫৬৬৪ নম্বরের শিলচর থেকে আগরতলাগামী আগরতলা এক্সপ্রেস যখন পানিসাগর স্টেশনে আসছিল, তখন শয়ে শয়ে বিক্ষোভকারী লাইনের ওপর শুয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে ট্রেনটি থামিয়ে দেন চালক।
অবরোধের কারণ
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আগরতলা-শিলচর রুটের মত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলি পানিসাগর স্টেশন পার হয়ে চলে যায়, কিন্তু এখানে থামে না। করোনা মহামারির সময় পানিসাগর স্টেশন থেকে স্টপেজ তুলে দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে আর চালু হয়নি। এদিকে এর ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় যাত্রী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে। এর আগে বহুবার রেল দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাই এবার নিজেদের দাবি আদায়ে সোজা রেল লাইনের ওপর শুয়ে পড়ে নজিরবিহীন প্রতিবাদ করছেন তাঁরা।
সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি
এদিকে ভরদুপুরে এভাবে রেল অবরোধের জেরে আগরতলা-শিলচর রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে রেল পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। ঊর্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে বলে আশ্বাস দেয়। তাদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চার ঘণ্টা বাদে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচলও। তবে অবিলম্বে পানিসাগরে আগরতলা-শিলচর রুটের ট্রেনগুলির স্টপেজ চালু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
সপ্তাহের মাঝখানে এভাবে আচমকা রেল অবরোধের জেরে ট্রেন চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। ফলে প্রচুর মানুষকে ভোগান্তি পোয়াতে হয়। যা নিয়ে সাময়িক উত্তেজনাও ছড়িয়ে ছিল। যদিও এর জেরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এখন দেখার রেল কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে পানিসাগরে আগরতলা-শিলচর রুটের ট্রেনগুলির স্টপেজ কবে থেকে চালু করে।
আরও পড়ুন: প্রতীক্ষার অবসান, ধর্মনগরের বিধায়কের উদ্যোগে বাংলা বাজারের সামনে হাল ফিরছে কদমতলা-রানিবাড়ি সড়কের
