মোহনপুর: সিমনা বিধানসভার সিমনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব কুনারঘাট, মধ্য কুনার ঘাট ও কুমারঘাট উত্তরপাড়া এই তিনটি গ্রাম রয়েছে। বসবাস করে প্রায় ২০০টি পরিবার। অভিযোগ, ওই তিনটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ট্রান্সফরমারটি রয়েছে পূর্ব কুনারঘাটে। গত দেড় বছরে সেটি তিনবার বিকল হলেও হুঁশ ফেরেনি বিদ্যুৎ দপ্তরের। বারবার অনুরোধ জানিয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।
তাঁদের অভিযোগ, আসলে ওই তিনটি গ্রামে যে গ্রাহকরা রয়েছেন তাঁদের বিদ্যুৎ খরচের চাহিদা অনুযায়ী যত কিলো ওয়াটের ট্রান্সফরমার লাগানো প্রয়োজন সেটা দপ্তর থেকে লাগানো হয়নি। চাহিদার তুলনায় কম কিলোওয়াটের ট্রান্সফরমার লাগানোর ফলে কিছুদিন পরপরই তা বিকল হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সংস্কারের অভাবে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির তারের মধ্যে বাঁশ এবং গাছের ডাল লেগে রয়েছে। যা কাটার কোনও উদ্য়োগ নেয় না বিদ্যুৎ দপ্তর। এর মাঝেই গত ১৫ দিন ধরে এই তিনটি গ্রামে বিদ্যুতের সমস্যায় নাজেহাল হচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা জানিয়েছেন সম্প্রতি লাগানো ট্রান্সফরমারটিও খারাপ হয়ে গেছে। এই ট্রান্সফরমারের পাশেই রয়েছে জলসম্পদ দপ্তরের পানীয় জল সরবরাহের মেশিনের জন্য আলাদা একটি ট্রান্সফরমার। এটাও কম কিলোওয়াট সম্পন্ন। গ্রামবাসীদের চাপের মুখে,বিদ্যুৎ দপ্তরের হেজামারা সাব স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নির্দেশে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা এসে ওই ট্রান্সফর্মার থেকে তিনটি গ্রামের বিদ্যুৎ পরিষেবার সংযোগ দিয়ে যায়। যার ফলে এই টান্সফরমারটিও বিকল হওয়ার পথে। স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগের সুরে বলেন, গ্রামে হাইটেনশনের যে তারগুলি রয়েছে সেগুলিও ঝুলে রয়েছে। হাত দিয়েই নাগালে পাওয়া যায়। ফলে যে কোনও সময় বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। স্থানীয় এক মহিলা আক্ষেপ করে জানান, বিদ্য়ুৎ বিভ্রাটের জেরে তাঁদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারছে না। বাড়িতে থাকা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদেরও ভীষণ অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে। এদিকে বাজারে কেরাসিন তেল নেই, মোমের দামও অত্যাধিক ফলে সমস্য়া বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ দপ্তরকে অবিলম্বে সমস্যার সমাধান করার আর্জি জানিয়েছেন সিমনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তিন গ্রামের বাসিন্দারা। এখন দেখার বিদ্যুৎ দপ্তর সেই আবেদনে কত দ্রুত সাড়া দেয়।
আরও পড়ুন: চাকুরির অপেক্ষা না করে পদ্মফুল চাষেই স্বাবলম্বী শান্তিরবাজারের শুভঙ্কর
