ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস তৈরির দাবিতে তেলিয়ামুড়ায় রেল অবরোধ, চরম ভোগান্তি যাত্রীদের

অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত

editorvanguard
3 Min Read
তেলিয়ামুড়ায় রেল অবরোধ

তেলিয়ামুড়া: দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাই ওভার বা আন্ডারপাসের দাবিতে সরব হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাতে কোনও কাজ না হওয়ায় রবিবার তেলিয়ামুড়ায় তিন ঘন্টা রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ দুর্ভোগ পোয়াতে হয় যাত্রীদের।

দাবি আদায়ের জন্য, সড়ক বা রেল অবরোধ কি শেষ রাস্তা! এই প্রশ্ন বারবার উঠেছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা থেকে সংসদের নিম্ন ও উচ্চ কক্ষে। এ নিয়ে বহু বিধায়ক ও সাংসদ তাঁদের বক্তব্য রেখেছেন। জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। আদালত বারবার স্পষ্ট করেছে যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার মৌলিক অধিকার হলেও, তা রাজপথ বা রেললাইন অবরুদ্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার হরণ করতে পারে না। কিন্তু, সেই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তেলিয়ামুড়ায় ৩ ঘণ্টার রেল অবরোধ করলেন লাখাই বাজার সংলগ্ন দুখাই জমাদার পাড়া ও আশপাশের একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। রবিবার, সকালে রেললাইনের উপর বসেই বিক্ষোভে সামিল হলেন তাঁরা। এর ফলে আটকে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ও শিলচর-আগরতলা এক্সপ্রেস ট্রেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তেলিয়ামুড়ার মিলন মালাং বাজার থেকে দুষ্কি যাওয়ার মূল সড়কের মাঝ বরাবর প্রায় ১৫ বছর আগে রেলপথ নির্মাণ করা হলেও আজ পর্যন্ত নিরাপদ পারাপারের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়নি। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে রেললাইন পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অব্যবস্থার কারণে ইতিমধ্যেই ট্রেনের ধাক্কায় একাধিক গবাদি পশুর পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও প্রাণহানি ঘটেছে। বহুবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। কিন্তু তাঁদের ক্ষোভ বিক্ষোভের কারণে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন শত শত যাত্রী।

ট্রেনটি দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীর নির্ধারিত বিমানের টিকিট থাকায় সময়মতো আগরতলা পৌঁছাতে না পেরে তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুণে ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে রওনা দেন।

ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং দ্রুত রেল চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি তোলেন। স্টেশন চত্বরে একসময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে অবরোধস্থলে ছুটে আসেন তেলিয়ামুড়ার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোহান কিষান, খোয়াই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাস্টিন জোসেফ, জিআরপি থানার আইসি ইন্টু মারাক, আরপিএফ এবং রেল দফতের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। তেলিয়ামুড়ার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা রেল অবরোধ করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিরাপদ পারাপারের কোনও স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি মিটিং এর কাথা জানান এসডিপিও। তিনি বলেন, সোমবার রাজ্য পুলিশ, রেল আধিকারিক, আরপিএফ এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের একটা মিটিং করা হবে। রেল সূত্রে খবর, মূলত জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফ্লাই ওভার বা আন্ডারপাস তৈরি সম্ভব হয়নি।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *