আগরতলা: শেষ পর্যন্ত কের চৌমুহনীতে এসে মেয়র তথা এলাকার বিধায়কের অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া আটকা পড়ল। আগরতলার কের চৌমুহনী শিব-কালী মন্দিরের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত বৈধ কমিটি ভাঙার চেষ্টা ব্যর্থ হল! অভিযোগ, স্থানীয় বিধায়ক তথা আগরতলা পুরনিগমের মেয়রের ফোন থেকেই বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে সাধারণ সভা ডাকার নির্দেশ এসেছিল। যদিও বর্তমান কমিটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত এবং তাদের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বিজেপির রাজ্য বা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে নির্বাচিত স্থানীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানা নেই। প্রশাসনিক স্তরেও এমন কোনও নির্দেশ নেই বলেই দাবি। তাহলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৈধ ক্লাব, বাজার কমিটি ও মন্দির কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের চেষ্টা কেন? তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। মেয়র তথা ৭ রামনগরের বিধায়কের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, সাত রামনগর বিধানসভা এলাকা এবং আট বড়দোয়ালি বিধানসভা এলাকার কিছু অংশে ইতিমধ্যেই অন্তত দশটি ক্লাব, দুটি বাজার কমিটি এবং কয়েকটি মন্দির কমিটি ভেঙে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সেই মতেই রবিবার কের চৌমুহনী শিব-কালী মন্দিরের সাধারণ সভা ডাকা হয়। প্রস্তাবিত বৈঠকে নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত না হওয়ায় বর্তমান কমিটির সভাপতি কল্যাণ নারায়ণ ভট্টাচার্য বৈঠক বাতিল ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন উঠছে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ কেন? যেহেতু বৈধ কমিটি সুতরাং দলীয় বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া এমন উদ্যোগ কীভাবে নেওয়া হলো? বৈধ কমিটিগুলো ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের অভিযোগের জবাব কে দেবে? সর্বোপরি মেয়র তথা বিধায়কের কের চৌমুহনী শিবকালী মন্দিরের নির্বাচিত বৈধ কমিটি ভাঙার ষড়যন্ত্রের খবর প্রকাশে আসতেই সর্বত্র ছি ছি রব উঠেছে।
