আগরতলা: ২২ জুলাই শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী খার্চি উৎসব ও মেলা। এই মেলাকে ঘিরে এবার পরিবেশ সচেতনার বার্তা দিতে চলেছে কমিটি। মেলায় প্রতিদিন এক হাজার চারা গাছ বিতরণের ঘোষণা করেছেন উৎসব ও মেলার সভাপতি তথা বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। খার্চি পূজা, উৎসব এবং মেলার ২৬৫ তম বছরের থিম “এক পেড় মা কে নাম”।
“এক পেড় মা কে নাম” সহজ বাংলায় যাকে বলা যায় “মায়ের নামে একটি গাছ”। এটি হল ভারত সরকারের দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযানের স্লোগান। চলতি বছর ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ক্যাম্পেনের সূচনা করেছেন। এবার এই “এক পেড় মা কে নাম”স্লোগান সামনে রেখে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী খার্চি উৎসব ও মেলা। জানালেন উৎসব ও মেলার সভাপতি তথা প্রবীণ বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিধায়ক বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হল, মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার্থে নিজ নিজ মায়ের নামে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ করা।
আগরতলা চতুর্দশ দেবতা মন্দির প্রাঙ্গণে আগামী ২২ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে খার্চি উৎসব ও মেলা। মেলা চলার সাত দিন ধরে প্রতিদিন ১ গাছ বিতরণ করা হবে বলে জানান রতন চক্রবর্তী। তিনি আরও বলেন, চতুর্দশ দেবতার পূজা ও পবিত্র স্নানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মেলায় রাজ্য ও ভিন রাজ্যের লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের সমাগম ঘটে। তিনি জানান বড়তি তথা স্পেশাল ট্রেন ও গাড়ির জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।
খার্চি মেলায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, স্টল গুলকে ওপেন লটারির মাধ্যমে ভাগ করে দেওয়া হবে বলে জানালেন উৎসব ও মেলার সভাপতি। তিনি বলেন আগামী মঙ্গলবার থেকে লটারি বিলি হবে। ১৯ তারিখ ফলাফল বেররে। বিধায়ক আরও জানান, পূজার সময় সারা দেশ থেকে সাধু সন্তরা আসবেন। তাদের বিশ্রামের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি বছরের মত থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ত্রিপুরা রাজ্য, উওর পূর্ব ভারেতের বাকি রাজ্য এবং পশ্চিম বঙ্গ থেকে আসা প্রায় ১১০০ জন শিল্পী মেলার কৃষ্ণমালা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবেন। লোকশিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্রের দক্ষত প্রদর্শনীতে, এক মিলন মেলায় রূপ পায়।
ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী খার্চি উৎসব ও মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যে দেশ জুড়ে প্রচার শুরু করছে রাজ্য পর্যটন দফতর, বলে জানান বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ত্রিপুরার রাজা পরিবারের কুলদেবতা ১৪টি দেব-দেবীর পূজা এবং হাওড়া নদীতে স্নান করার রীতি এর প্রধান অঙ্গ। এক সময় ত্রিপুরার রাজারা এই পূজা পরিচলনা করতেন। পরে রাজ্যের আদিবাসী জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ সেই ধারা বহন করেছে। বর্তমানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এটি সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। চলতি বছর খার্চি পূজা, উৎসব এবং মেলা ২৬৫ বছরে পদার্পন করবে।
