আগরতলা: সারা বিশ্বজুড়ে আজ জগন্নাথ দেবের পবিত্র স্নানযাত্রা পালিত হলে মহাধুমধামে। সকাল থেকে পবিত্র স্নানযাত্রা উপলক্ষে ভক্তদের ভিড় দেখা গেল আগরতলার জগন্নাথ জিউ মন্দিরেও। প্রথা মেনে স্নানযাত্রার সাক্ষী হল আট থেকে আশি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুখ-দুঃখ কবিতায় যেমন মেলার উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ধরা পড়ে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের চিরন্তন জীবনচিত্র, তেমনি আগরতলার জগন্নাথ জিও মন্দিরেও সোমবার ভক্তি, ঐতিহ্য ও মানবিক আবেগের অনন্য মিলনে পালিত হল জগন্নাথের স্নানযাত্রা উৎসব।
সকাল থেকেই ভক্তদের ঢলে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শিশু থেকে প্রবীণ, সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে চারদিকে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। কারও হাতে ছিল প্রসাদ, আবার শিশুদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে উৎসবের নির্মল আনন্দ। স্নানযাত্রার ১৫ দিন পর রথযাত্রা উৎসব, বলে জানালেন জগন্নাথ মন্দিরের অধ্যক্ষ মহারাজ ভক্তি কমল বৈষ্ণব।
তবে স্নানযাত্রার মাহাত্ম্য শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তাও বহন করে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই তিথিতে জগন্নাথের দর্শন ও আশীর্বাদ জীবনে সুখ, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনে। আর সেই বিশ্বাস ও আনন্দকে সঙ্গী করেই আগামী রথযাত্রাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ। নিয়ম অনুযায়ী, স্নানযাত্রার পর জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার ১৫ দিন জ্বর থাকে। ১৫ দিন পর সুস্থ হয়ে রথে আরোহণ করেন তাঁরা। আর তাকেই বলে রথযাত্রা।
