গোলাঘাটি: নেই মিড-ডে মিল খাওয়ার নির্দিষ্ট জায়গা, নেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থা, এমনকি প্রাথমিক বিভাগে শিক্ষকের তীব্র সংকটের অভিযোগ! ট্রিপিল ইঞ্জিন সরকারের আমলে ত্রিপুরা রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রশ্ন তুলছেন নিন্দুকেরা।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে যখন আধুনিক শিক্ষার বড় বড় বুলি আওড়ানো হচ্ছে, ঠিক তখন ত্রিপুরার গোলাঘাটির লক্ষ্মীছড়া রামকৃষ্ণ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছবিটা দেখলে চোখ কপালে উঠবে।অভিযোগ দীর্ঘ দিন ধরে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিকাঠামো সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মিড-ডে মিলের খাবার খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাইনিং হল বা বসার জায়গা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে বাধ্য হয়েই প্রতিদিন রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা গাছের তলায় দাঁড়িয়ে খাবার খেতে হচ্ছে খুদে পড়ুয়াদের। অভিভাবকদের অভিযোগ, গাছের তলায় দাঁড়িয়ে খাবার সময় থালায় পোকামাকড় বা নোংরা পড়ার তীব্র আশঙ্কা থাকে। এখানেই শেষ নয়, অভিভাবকদের আরও অভিযোগ স্কুলে নেই কোনো বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা। বাড়ি থেকে বোতল ভরে জল না আনলে তৃষ্ণা মেটানোর কোনো উপায় নেই পড়ুয়াদের। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল গোলাঘাটির লক্ষ্মীছড়া রামকৃষ্ণ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা। নার্সারি বিভাগের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষকই নেই! ফলে বড়দের ক্লাসরুমে বসিয়েই দায়সারাভাবে চলছে খুদেদের পাঠদান। বিঘ্নিত হচ্ছে শিশুদের বুনিয়াদি শিক্ষা। নিন্দুকেরা বলছেন শিশুদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে শিক্ষা দফতর।
অভিযোগ উঠেছে, এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজ্যের শিক্ষা দফতর, সমস্যা সমাধানে সদ ইচ্ছা রাখেনা। তাদের সমস্যার কথা বারবার জানিয়েও মেলেনি কোনো সুরাহা। সোমবার সকালে অভিভাবকরা News Vanguard এর ক্যামেরার সামনে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন।
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, ত্রিপল ইঞ্জিন সরকারের এই কেমন শিক্ষা মডেল? যেখানে ন্যূনতম সুবিধাটুকু থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্যের ভবিষ্যৎ। এখন দেখার, News Vanguard এর পর্দায় এই খবর দেখার পর, এই স্কুলের সমস্যাগুলি দূর করতে সরকার ও শিক্ষা দফতর কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয় নাকি! নাকি এই বেহাল দশাই নিয়তি হয়ে থাকবে গোলাঘাটির লক্ষ্মীছড়া অঞ্চলের পড়ুয়াদের।
