আগরতলা: তীব্র গরম, চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর এই নরক যন্ত্রণার মাঝেই চরম অমানবিকতার নজির গড়ল ত্রিপুরার বিদ্যুৎ দপ্তর! আগরতলার রামনগর ৪ নম্বর রোড যখন বিদ্যুৎহীন হয়ে নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে, তখন এসি ঘরে শান্তিতে ঘুমোলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী সহ তাঁর দপ্তর বাবুরা। আর নরক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সাধারণ মানুষ মাঝরাতে বাধ্য হলেন রাস্তায় নামতে।
গভীর রাতে যখন গোটা এলাকা বিদ্যুৎহীন, ঘরে ঘরে অসুস্থ রোগী আর শিশুরা ছটফট করছে, তখন ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে এলাকাবাসীর। ক্ষুব্ধ জনতা সশরীরে চড়াও হন বিদ্যুৎ দফতরে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁর জানতে পারল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য! দায় এড়াতে লাইনম্যানরা যা বললেন, তাতে বিদ্যুৎ দপ্তরে কঙ্কালসার চেহারাটা আরও একবার সামনে চলে এল। কর্তব্যরত লাইনম্যানদের দাবি, দপ্তর থেকে ভালো মানের তার দেওয়াই হয় না! নিম্নমানের তারের কারণেই বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে রামনগরের ৪ নম্বর রোডের বাসিন্দারা যখন বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার অপু পালকে বারবার ফোন করেন, তখন তিনি ফোন ধরার সৌজন্যটুকুও দেখাননি বলে অভিযোগ। এবিষয়ে শুধু রামনগর নয় পুরো ত্রিপুরার মানুষের অভিযোগ, জনসেবার নামে চেয়ারে বসে জনগণের ফোন কেটে দেওয়া ত্রিপুরার বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসারদের যেন মজ্জাগত স্বভাব!
আরও পড়ুন: Panisagar News: সর্ষের মধ্যে ভূত! পানিসাগরে পুলিশের হেফাজত থেকে প্রতারক চম্পটের ঘটনায় উঠছে প্রশ্ন
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন এখন একটাই, কতদিন চলবে বিদ্যুৎ দপ্তরের এই ‘ভিলেন’গিরি? একদিকে মাসের শেষে মোটা অঙ্কের বিল পাঠাতে বিদ্যুৎ নিগমের এক মিনিটও দেরি হয় না, অথচ নূন্যতম পরিষেবা দিতে গেলেই তারের অভাব, আর অফিসারদের ফোন ‘নট রিচেবল’। রামনগরের এই রাতের বিক্ষোভ কিন্তু ত্রিপুরার ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটা বড়সড় হুঁশিয়ারি। এবার কি ঘুম ভাঙবে বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী ও বড় বাবুদের? নাকি অন্ধকারের রাজত্বই চালাবেন তাঁরা?
