চুড়াইবাড়ি: নামী অনলাইন সংস্থার পণ্যবাহী কন্টেনারের মাধ্যমে মাদক পাচারের চেষ্টা বানচাল হয়ে গেল পুলিশি তৎপরতায়। পাশাপাশি অসম-ত্রিপুরা সীমান্তে ফের উন্মোচিত হল এক ভয়ঙ্কর সত্য। কোনো সাধারণ পাচার নয়, নামী অনলাইন সংস্থার পণ্যবাহী কন্টেনারকে ঢাল বানিয়ে ত্রিপুরায় ঢুকছিল লাখ লাখ টাকার নিষিদ্ধ মাদক। অসম চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্ট পুলিশের তৎপরতায় ভেস্তে গেল সেই মাস্টারপ্ল্যান।
সোমবার সন্ধ্যায় গুয়াহাটি থেকে আগরতলাগামী একটি ৬ চাকার কন্টেনার আটকায় পুলিশ। ঢালা খুলতেই ওপরে সাজানো ছিল চেনা-পরিচিত সব অনলাইন পার্সেলের কার্টুন, আর তার ঠিক পেছনেই লুকিয়ে রাখা ছিল ১৫০০ বোতল নিষিদ্ধ ‘এসকাফ’ কাফ সিরাপ! যার কালোবাজারি মূল্য প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। ভাবুন একবার! যে গাড়ি আপনার দরজায় খুশি বয়ে আনার কথা, তা বহন করছে তরল বিষ। পুলিশ ইতিমধ্যেই চালক রহিম উদ্দিন লস্করকে গ্রেপ্তার করে NDPS আইনে মামলা করেছে।
আরও পড়ুন: সর্ষের মধ্যে ভূত! পানিসাগরে পুলিশের হেফাজত থেকে প্রতারক চম্পটের ঘটনায় উঠছে প্রশ্ন
যদিও ওয়াকিবহাল মহল বলছে, রহিম উদ্দিন লস্করের মত চালকেরা বারবার ধরা পড়ে। মামলা হয়। বিচার হয়, জেলে যায়। কিন্তু আসল অপরাধীরা পর্দার আড়ালেই থেকে যায়। আর ঠিক সেই জায়গাতে প্রশ্ন ওঠে আপনার অজান্তেই আপনার সন্তান এই মরণফাঁদে পা দিচ্ছে না তো? মাদক সিন্ডিকেটের এই হাইটেক রূপ দেখে ঘুম উড়েছে রাজ্যবাসীর। সীমান্ত পেরিয়ে যেভাবে এই বিষাক্ত থাবা ত্রিপুরার ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ছে, তাতে আর কতদিন নিরাপদ থাকবে আমাদের ভবিষ্যৎ? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকে আসা এই মরণ নেশার গ্রাসে ধ্বংস হতে চলেছে ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আতঙ্ক গ্রাস করছে প্রতিটি পরিবারকে। প্রতিকার কী আদৌও হবে উঠছে প্রশ্ন!
