আগরতলা: রাজ্য়ের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও উন্নত করে তুলছে একাধিক বড় উদ্য়োগ গ্রহণ করল সরকার। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও আবাসন মন্ত্রী (Union Minister of Power and Housing & Urban Affairs) মনোহরলাল খাট্টরের উপস্থিতিতে রবিবার আগরতলার রাজ্য অতিথি নিবাসের সম্মেলন কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-র অগ্রগতি এবং বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। (News Vanguard)
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর (Manohar Lal Khattar) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর বিদ্যুৎ প্রকল্পের (Surya ghar muft bijli yojana) আওতায় ত্রিপুরায় ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় দু-লক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সৌরবিদ্যুতের সুবিধা পাবেন এবং বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। ত্রিপুরায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তবে ভালো ভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের সময়মতো বিল পরিশোধ করতে হবে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় আর্থিক ক্ষতি কমানো গেলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের বিল হ্রাসের বিষয়টিও বিবেচনা করা সম্ভব হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির আর্থিক স্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।
আরও পড়ুন: BSF-র গুলিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, কলমচৌড়া থানায় বিক্ষোভ উত্তেজিত জনতার
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিউক্লিয়ার বিদ্যুতের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। (News Vanguard)
আগরতলার রাজ্য অতিথি নিবাসের সম্মেলন কক্ষের বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা (Tripura CM Manik Saha), বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ত্রিপুরা বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যার সুফল আগামী দিনে রাজ্যবাসী পাবেন বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।
