শিলাছড়ি: ঠিক এক মাস পাঁচ দিন আগে ভেঙে গিয়েছিল একাধিক মানুষের যাতায়াতের অবলম্বন অস্থায়ী সেতু। এরপর থেকেই বাকি পৃথিবীর সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন শিলাছড়ি ব্লকের ঘোরাকাপ্পার পাঁচটি এডিসি ভিলেজের বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন সেতু নির্মাণ বা নিরাপদ যাতায়াতের কোনও কার্যকর ব্যবস্থাই এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এমনকী এই বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্যও কেউ করছে না।
একেই রাজ্যে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে, তার ওপর ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব। যার ফলে ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে ত্রিপুরাজুড়ে। তবে আগাম বর্ষার ভারী বৃষ্টির ফলে ভেঙে গিয়েছে অস্থায়ী সেতু, ঠিক এক মাস পাঁচ দিন আগে। বিচ্ছিন্ন, গোমতী জেলার করবুক মহকুমার শিলাছড়ি ব্লকের ঘোরাকাপ্পার পাচটি এডিসি ভিলেজ। তাঁর পর থেকে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, গর্ভবতী মহিলা, অসুস্থ রোগী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, ব্যবসায়ী সহ হাজারো মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রেশন সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে দুটি বৈদ্যুতিক খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। সেই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই মানুষ এবং মোটরসাইকেল চলাচল করছে। যার ফলে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাচটি এডিসি ভিলেজের মানুষেরাই।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, করবুক মহকুমা প্রশাসন, শিলাছড়ি ব্লক প্রশাসন, ৪৩ করবুকের বিধায়ক সঞ্জয় মানিক ত্রিপুরা এবং ২৮ নম্বর শিলাছড়ি মনু বঙ্কুল এমডিসি কাঙজাওং মগ সহ সকলকে জানানও হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কর্তা বা জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় এসে সমস্যার সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। আরও অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন সেতু নির্মাণ বা নিরাপদ যাতায়াতের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রে খবর, এনএইচ সড়কের কাজের সময় মূল সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল।
