আগরতলা: জিরানিয়ার পর এবার আগরতলা রেল স্টেশন। কয়েক মাস আগের স্মৃতি উসকে রেলের ওয়াগন থেকে আনুমানিক ৬.৫৪ কোটি টাকার নিষিদ্ধ কোডিনযুক্ত কফ সিরাপ উদ্ধার করা হল। এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের যুব কল্যাণ মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ গড়াতে সকলকে সচেতন হওয়ার ডাক দিলেন মন্ত্রী।
দীর্ঘদিন ধরেই ত্রিপুরার যুব সমাজকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে নেশা। প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের তরফে ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ গড়ার ডাক দেওয়া হলেও এর ভয়াবহতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি ও যুব সমাজের নেশার কবলে পড়া একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জলন্ত সমস্যা। এই আবহে, ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স, অসম রাইফেলস, আরপিএফ এর বিশেষ অভিযানে, রাজধানী আগরতলার রেল স্টেশনের রেল ওয়াগন থেকে বিপুল পরিমাণ নেশা সামগ্রী উদ্ধার। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের যুব কল্যাণ মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। তিনি বলেন, আমাদের আগামী প্রজন্মকে নেশা কারবারীরা ক্রেতা হিসাবে দেখছে। যা খুব চিন্তার বিষয়।
যুব কল্যাণ মন্ত্রী টিঙ্কু আরও বলেন প্রশাসনের তৎপরতায় নেশা কারবারীদের চেন ভেঙে দেবার চেষ্ঠা চলছে। প্রতিবেশী রাজ্য অসমে সীমান্তের চুরাইবাড়ি সীমান্তে বসানো হচ্ছে অধুনিক স্ক্যানার। যা ভেদ করে রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেনা নেশা সামগ্রী।
টিঙ্কু আরও জানান, গত ৩ বছরে ১৮০০ জন নেশা কারবারীদের শাস্তিদেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে, আগরতলা রেল স্টেশনে মালবাহী ট্রেনের পার্সেল ভ্যান থেকে আনুমানিক ৬.৫৪ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কোডিনযুক্ত কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, লোহার ড্রামের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ৫৫,৬২৬ বোতল নিষিদ্ধ ‘Eskuf’ এবং ‘Fairdeal’ কফ সিরাপ।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্টেন্সেস’ ওরফে NDPS আইন, ১৯৮৫-এর অধীনে মামলা দায়ের করেছে। এই আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের শিকড় এবং এর সাথে যুক্ত বাকিদের খুঁজে বের করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। রেলের রেকর্ডে সূত্রে খবর, ড্রামের চালানের বুকিং হয়েছিল বিহারের কাটিহার থেকে। প্রেরক হিসেবে আগরতলার জনৈক চন্দন বর্মনের নাম রয়েছে।
