কাঞ্চনপুর: ভারতীয় সংবিধানে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশ যখন বিশ্বগুরু হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। যখন চারিদিক ডিজিটাল ইন্ডিয়ার জয়জয়কার হচ্ছে তখন শিক্ষক সঙ্কটে ধুঁকছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমার সরকারি বিদ্যালয়গুলি। শিক্ষক সঙ্কট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। যার ফলে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা। শান্তিপুর হাই স্কুলের প্রাইমারি বিভাগে শতাধিক পড়ুয়া। কিন্তু মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত। অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে থেকেও একজনের বদলির নির্দেশ এসেছে। যা জানার পর ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা বিষয়টি নজরে এনেছেন রাজ্যের শাসক দল বিজেপির। এরপরই শান্তিপুর বিজেপি বুথ সভাপতি সহ একটি প্রতিনিধি দল কাঞ্চনপুর মহকুমা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। কাঞ্চনপুর মহকুমা বিদ্যালয় পরিদর্শক সঞ্জয় দেববর্মা শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সমস্যার কথা ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সমতলের বিদ্যালয়গুলির অবস্থা যখন এমন, তখন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিদ্যালয়গুলির পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে অনেক পড়ুয়া সরকারি বিদ্যালয় ছেড়ে বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। তবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এখনও সরকারি বিদ্যালয়ই একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চনপুর মহকুমার দশদা, লালজুরি ও জম্পুই হিল এই তিনটি ব্লকে রাজ্য সরকারের মোট ৩৪টি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি বিদ্যালয় কাঞ্চনপুর বিদ্যালয় পরিদর্শক দফতরে আওতাধীন। এই তিন দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়েই শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষের দাবি, শিক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে মহকুমার সব সরকারি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। না হলে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে মহকুমার কচিকাঁচা থেকে আগামী প্রজম।
