আগরতলা: ১০ জুন রাতে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়েছে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের যুবতী কর্মী মনীষা দাসের। তারপর থেকে সাতদিন কেটেও গেলে এখন সামনে আসেনি আসল সত্য! এমনটাই মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। বরং মনীষা দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ক্রমেই আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলেই তাদের মত।
তদন্তের চাকা ঘুরলেও একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসায় জনমনে বাড়ছে কৌতূহল, উদ্বেগ এবং জল্পনা। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে কর্মরত অবস্থায় মনীষাকে নিয়মিত ছুটি দেওয়া হত না। শুধু তাই নয়, তাঁকে নানা কঠিন দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হত, বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী মেডিকেল টিম পর্যবেক্ষণে এলে রাতে কলেজে থেকে তাঁকে কাজ করতে বাধ্য করা হত, বলেও দাবি পরিবারের। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, একজন তরুণী কর্মীকে ঠিক কী ধরনের কাজের জন্য গভীর রাত পর্যন্ত থাকতে হত? পরিবারের লিখিত অভিযোগপত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও তা খতিয়ে দেখতে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপের তথ্য কেন সামনে আসছে না? মৃতার প্রেমিকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নীরবতা কেন? এছাড়া পরিবারের তরফে মনীষাকে দিয়ে কঠিন কাজ পড়ানো হত বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সেই কঠিন কাজগুলো কী?
সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে, কর্মপরিবেশ, দায়িত্ব বণ্টন, উপস্থিতির রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রশাসনিক তদারকির বিষয়গুলো গভীরভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ এসব তথ্যই হয়তো ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে পারে।
এদিকে সামাজিক পরিসরেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, কোনও প্রভাবশালী মহলের চাপ কি তদন্তের গতি ও দিককে প্রভাবিত করছে ? সব মিলিয়ে মনীষা দাসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, সেই উত্তর এখনও অধরা। তাই জনমতের বড় অংশের দাবি, অনুমান নয়- প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমেই সামনে আসুক সত্য। কারণ এই রহস্যের সমাধান শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
