আগরতলা: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে উত্তাল হয়ে উঠল জিরানিয়া রেলস্টেশন চত্বর। আগরতলা থেকে করিমগঞ্জগামী যাত্রীবাহী ট্রেনটি মাত্র পাঁচটি বগি নিয়ে যাত্রা শুরু করতেই ভোগান্তির শিকার হন শত শত যাত্রী। আগরতলা স্টেশন থেকেই ট্রেনের প্রতিটি বগি ছিল উপচে পড়া ভিড়ে পূর্ণ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেক যাত্রী বগির ভেতরে জায়গা না পেয়ে ইঞ্জিনের কাছে জায়গা নেন।
ট্রেনটি জিরানিয়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর আরও যাত্রী উঠতে গেলে দেখা যায়, দাঁড়ানোরও কোনও জায়গা নেই। হাতে বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও বহু যাত্রী ট্রেনে উঠতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপর বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা করিমগঞ্জগামী ট্রেনটির পাশাপাশি ধর্মনগর থেকে আগরতলাগামী যাত্রীবাহী ট্রেনও আটকে দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও জিআরপি। তাদের হস্তক্ষেপে সকাল ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ অবরোধ উঠে যায়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, করিমগঞ্জগামী ট্রেনটি পর্যাপ্ত বগি যুক্ত করা হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। বিশেষ করে এর জন্য নিত্যযাত্রী ও সরকারি কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
আর এখানেই উঠছে কয়েকটি বড় প্রশ্ন। প্রতিদিনের যাত্রীচাপ জানা সত্ত্বেও কেন মাত্র পাঁচটি বগি নিয়ে ট্রেন চালানো হল? যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি কি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে? হাতে টিকিট থাকা যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে না পারলে তার দায় নেবে কে? আর কতদিন এমন অব্যবস্থার শিকার হবেন সাধারণ মানুষ?
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
