কৃষ্ণপুর: জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার এলাকায় কৃষ্ণপুর-ভায়া-মন্ত্রী বাড়ি সড়ক দেখে বোঝার উপায় নেই রাস্তা নাকি কোনও ডোবা! গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়দিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অভিযোগ, মন্ত্রীর নজরে বিষয়টি বারবার আনা হলেও মিলেছে শুধুই আশ্বাস।
উন্নয়নের ঢাকঢোল যতই পেটানো হোক না কেন, রাজ্যের গ্রামীণ ও সংযোগকারী সড়কগুলোর কঙ্কালসার চেহারা কিন্তু অন্য কথাই বলছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে কৃষ্ণপুর বিধানসভার অন্তর্গত তেলিয়ামুড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নেতাজি নগর থেকে উত্তর মহারানী পর্যন্ত বিস্তৃত কৃষ্ণপুর-ভায়া-মন্ত্রী বাড়ি সড়কের অবস্থা এখন এতটাই শোচনীয় যে, সেখানে যাতায়াত করাই যেন এক মস্ত বড় শাস্তি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা পরিণত হয় পুকুরে। পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেই গর্তগুলো ঢেকে যাচ্ছে জলে। বোঝার উপায় নেই রাস্তা নাকি কোনো ডোবা! এভাবেই গত কয়েক মাস ধরে মরণফাঁদে পরিণত হয়ে রয়েছে।
এদিকে এই রাস্তাটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন। প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করেন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু বর্তমানে সড়কের যা পরিস্থিতি, তাতে টমটম, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেল চালকদের প্রতিনিয়ত বুক দুরুদুরু করে চলাচল করতে হচ্ছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়দিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ আরও মারাত্মক।
তাঁদের দাবি, এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার এলাকায় এই সড়কটির অবস্থান। প্রশাসনের পাশাপাশি খোদ মন্ত্রীর নজরেও বারবার বিষয়টি আনা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অভিযোগ, শুধু আশ্বাসের বাণীই মিলেছে, রাস্তা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। দিন দিন এই সড়কের অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীদের সাফ কথা, জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন যদি দ্রুত সড়কটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা না নেয়, তবে আগামী দিনে যেকোনো বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আর এই নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীরা।
