শান্তির বাজার: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার কি এখন চোরদের স্বর্গরাজ্য? স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে। রাতের অন্ধকারে একের পর এক দোকানে ভাঙছে তালা, সাবাড় হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী। এত সব কিছুর পরেও শান্তিরবাজারে পুলিশ প্রশাসন যেন স্রেফ নীরব দর্শক! নৈশকালীন টহলদারির নামে পুলিশ শুধু কোণায় কোণায় বসে সময় কাটাচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের।
সম্প্রতি বাজারের পাইকারি সবজি আড়তদার নারায়ণ দত্তের দোকান এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দিরসহ একাধিক দোকানে হানা দেয় ‘নিশি কুটুম্বের’ দল। দোকানের তালা ভেঙে লুটে নেওয়া হয় মূল্যবান সামগ্রী। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থানীয় কালী মন্দিরে এপর্যন্ত প্রায় পাঁচ থেকে ছয়বার চুরির ঘটনা ঘটেছে! পবিত্র উপাসনালয়ও আজ সুরক্ষিত নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকা সত্ত্বেও চোরদের খাঁচাবন্দি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ শান্তিরবাজার থানার পুলিশ। ব্যবসায়ীদের একাংশের ক্ষোভ, পুলিশের মূল ব্যস্ততা এখন চোর ধরা নয়, বরং নাকা চেকিংয়ে বসে হেলমেটহীন বাইক আরোহী কিংবা গরুর গাড়ি ধরা। রাজস্ব আদায় বা নিয়ম দেখানোর চক্করে আসল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, এই ধারাবাহিক চুরি তারই প্রমাণ।
সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ চোরদের হদিস পাচ্ছে না? পুলিশ কি সত্যিই শুধু নাকা চেকিংয়েই ব্যস্ত, নাকি শান্তিরবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে তাদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে? পুলিশের এই চরম ব্যর্থতায় ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এখন দেখার, এই গণঅসন্তোষের পর শান্তিরবাজার থানার পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে কি না, নাকি চোরের উপদ্রব এভাবেই জারি থাকবে।
