আগরতলা: আগরতলার প্রধান ডাকঘরে ৩৯৩ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। ডাক ব্যবস্থাকে ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। উভয় তরফের পুঙ্খানুপুঙ্খ ঠিকানাবিহীন পার্সেল কীভাবে পেরোল বিভিন্ন স্তরের যাচাই? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আগরতলা প্রধান ডাকঘর থেকে ৩৯৩ বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমেদাবাদ থেকে আসা কয়েকটি কার্টুন ভর্তি এই নেশাজাতীয় সামগ্রী গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানালেন পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি।
ডাকঘরে মজুদ পার্সেল থেকে বিপুল পরিমাণ নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই একাধিক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে। কারণ, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে উদ্ধার হওয়া কার্টুনগুলিতে প্রেরক এবং প্রাপকের পুঙ্খানুপুঙ্খ ঠিকানা ছিল না। পুলিশ এক্ষেত্রে কেবলমাত্র একটি ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে।
অথচ সাধারণ মানুষ যখন স্পিড পোস্ট বা অন্য কোনো ডাক পরিষেবার মাধ্যমে সামগ্রী পাঠাতে যান, তখন প্রেরক ও প্রাপকের বিস্তারিত ঠিকানা ছাড়া ডাক বিভাগ কোনোভাবেই সেই সামগ্রী গ্রহণ করে না। গ্রাহকদের রীতিমতো চরকির মত ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সম্পূর্ণ পুঙ্খানুপুঙ্খ ঠিকানা ছাড়া এই কার্টুনগুলি কীভাবে ডাক ব্যবস্থায় গ্রহণ করা হলো? আবার প্রশ্ন উঠছে, আমেদাবাদ থেকে আগরতলা পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসার সময় কোনো স্তরেই কেন সন্দেহজনক পার্সেল হিসেবে এগুলি চিহ্নিত হলো না? আরও বড় প্রশ্ন, এই নেশাজাতীয় কফ সিরাপ কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর প্রকৃত গন্তব্য কোথায়? ঘটনার পর অনেকের মনেই আরেকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
ডাক বিভাগের কোনও অসাধু কর্মী বা অভ্যন্তরীণ চক্রের সহযোগিতা ছাড়া এমন চালান আদৌ সম্ভব কি? যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও ঘটনাটি ঘিরে জনমনে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। নেশা কারবারিদের জাল যে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, এই ঘটনা তারই আরেকটি উদাহরণ।
ডাক পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে যদি নেশা সামগ্রী পাচারের চেষ্টা হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গভীর তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কারা এই চালানের নেপথ্যে, কোথা থেকে এটি পাঠানো হয়েছে এবং কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরই এখন জানতে চাইছে সাধারণ মানুষ।
