শান্তিরবাজার: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাস, বলপূর্বক ধর্ষণ। গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল ১৯ বছরের কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী। এক সন্তানের জন্ম দেয় নির্যাতিতা। কিন্তু বেপাত্তা অভিযুক্ত যুবক। অভিযোগ বিয়ে তো দূরের কথা, অভিযুক্ত যুবক রাখছে না কোনও যোগাযোগ। অসহায় অবস্থায় দিন কাটাছে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। নিজেদের নিরাপত্তা এবং বিচারের আশায় তাঁরা দ্বারস্থ হল সাব্রুম থানার পুলিশের কাছে। বৃহস্পতিবার নির্যাতিতার মামা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত যুবকের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।
নির্যাতিতা সাব্রুম এমএমডি কলেজের ছাত্রী। বাড়ি শান্তিরবাজার সাব ডিভিশনের কোয়াইফাং এলাকায়। কলেজে পড়াশোনার সূত্র সাব্রুমের আনন্দ পাড়ার জনৈকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০২৫ সালে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব হয়। সেই বন্ধুত্ব থেকে ভালবাসা হতে সময় লাগেনি। ছেলেটি কথা দিয়েছিল ওকে বিয়ে করবে। যুবক বলে দুজনের সাজানো গোছানো সুখের সংসার হবে। স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তপশিলি জনজাতি ভুক্ত তরুণীটি। যুবকটির প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে জন্মায় বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসকে ভর করে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে তরুণী মেতে ওঠেন শরীরি প্রেমে। দুজনের বাঁধানহীন শারীরিক ভালোবাসায় নির্যাতিতার গর্ভে বেড়ে উঠতে থাকে সন্তান।
গর্ভযন্ত্রণা নিয়ে গত ৭ জুন সন্ধ্যার পর কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হন তরুণী। জন্ম দেন পিতৃ পরিচয়হীন এক সন্তানের। খবর পেয়ে, ৮ জুন অভিযুক্ত যুবক কলাছড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন। কিন্তু তারপর থেকে কার্যত কর্পুরের মত উবে গেছে সে। নেই কোনও যোগাযোগ। পরিস্থিতি এমন যে, নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের মাথার ওপর ভেঙে পড়েছে গোটা আকাশ। এখন ভরসা সাব্রুম থানার পুলিশ। নির্যাতিতা তরুণী শুধু এতটুকু জানাতে পেরেছেন, বেতাগা এডিসি ভিলেজ এলাকার অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
