কদমতলা: অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে যেতে গিয়ে বিএসএফের জালে ধরা পড়ল তিন বাংলাদেশী সহ একজন ভারতীয় দালাল। ঘটনা ঘটেছে উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা থানা এলাকার রানিবাড়ি সীমান্তে। কেনও ভারতে এসেছিল এই তিন বাংলাদেশী তা জানতে তদন্ত করছে কদমতলা থানার পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ভারতের অন্যতম প্রধান অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, অসম ও ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশের ফলে স্থানীয় জনবিন্যাস দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে বহু আলোচনা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির বেশ কিছু জেলায় স্থানীয় জনসংখ্যার ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ঠিক এই আবহে বিএসএফের জালে ধরা পড়ল তিন বাংলাদেশি নাগরিক। উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা সীমান্তে বিএসএফের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে আটকে গেল ফের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রানিবাড়ি সীমান্ত চৌকির কাছে একটি সন্দেহজনক ই-রিকশা দেখে থামান কর্তব্যরত জওয়ানরা। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ধৃত তিন যাত্রী হল বাংলাদেশের সিলেটের পুরান বাজার থানার সিউলপুরের লিতান মিঞা, মৌলভীবাজার সদরের আদাংগির সাহিল মিঞা ও সুবুজ মিঞা। জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে যে বৈধ নথি ছাড়াই তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল। আর এখানকার কাজ সেরে ফের ওই পথেই বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু, সেই চেষ্টা আর সফল হল না।
ধৃত বাংলাদেশিদের সাহায্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঊনকোটি জেলার পেঁচারথলের উত্তর ধনিছড়ার বাসিন্দা ৪১ বছরের অটোচালক মানিক রায়কে। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে সে বাংলাদেশিদের পেঁচারথল থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছিল। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও বেশ কিছু সন্দেহজনক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে বিএসএফ। তিন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয় দালালকে কদমতলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ।
এপ্রসঙ্গে ধর্মনগরের এসডিপিও জয়ন্ত কর্মকার জানান, অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের জেরা করা হবে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই রানিবাড়ি-কদমতলা সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ফের উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
