কৈলাসহর: গ্রামবাসীর অজান্তে উন্নয়নমূলক কাজ করার অভিযোগ জানিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হল। ঘটনাটি ঘটেছে কৈলাসহরের চন্ডীপুর ব্লকের অধীন মাইলং এডিসি ভিলেজে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বিক্ষোভ অরাজনৈতিক বলে দাবি করা হলেও পঞ্চায়েত অফিসের তালায় ছিল তিপ্রা মোথার পতাকা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি তহবিলের অর্থে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হলেও সেই বিষয়ে গ্রামবাসীকে কিছুই জানানো হয়নি। একাধিকবার পঞ্চায়েত সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বলা হলেও কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মতিরঞ্জন দেববর্মা, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দেববর্মা, বিডিও দেবপ্রিয়া দাস সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ আলোচনার পর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, চলমান উন্নয়নমূলক কাজ ১০ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোথার দুই নেতৃত্ব বিপুল দেববর্মা এবং বীরেশ দেববর্মা। দুই নেতৃত্ব ১০ জুন গ্রামসভা ডেকে সমস্ত প্রকল্প ও ব্যয়ের বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করা হবে। এরপরই কাজ পুনরায় শুরু হবে। বিকেলে বৈঠক শেষ হওয়ার পর গ্রামবাসী অফিসের তালা খুলে দেন এবং স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু হয়। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরলেন মোথা নেতৃত্ব।
তবে শুধু মাইলং ভিলেজ কমিটি নয়, চন্ডিপুর ভিলেজ কমিটির আওতাধীন চারটি ভিলেজ কমিটিতেই একই হাল বলে অভিযোগ মোথা নেতৃত্ব। তবে এদিনের এই তালা দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সাধারণের বলে নেতৃত্বের অভিমত।
যদিও একে মোথা নেতৃত্ব অরাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বলে দাবি করলেও অফিসের তালায় তিপ্রা মোথার পতাকা দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাকে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে মোথার রাজনৈতিক তৎপরতা বলেই বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিমত।
