ফের অশান্তির শঙ্কা! ১২ জুন থেকে ৭২ ঘণ্টা হরতালের ডাক আত্মসমর্পণকারী NLFT এবং ATTF-এর সদস্যদের

সমাধান হবে সমস্যার!

3 Min Read
সাংবাদিক বৈঠকে আত্মসমর্পণকারী বৈরী NLFT এবং ATTF-এর সদস্যরা

আগরতলা: ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের আগে ত্রিপুরার আকাশে সিঁদুরে মেঘের শঙ্কা। ফের পাহাড় অশান্ত হওয়ার আশঙ্কা। ১২ জুন থেকে ৭২ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিল আত্মসমর্পণকারী বৈরী NLFT এবং ATTF-এর সদস্যরা

ফের ত্রিপুরার আকাশে সিঁদুরে মেঘের শঙ্কা। যে কোনও দিন ঘোষণা হতে পারে ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের দিনক্ষণ, এই আবহে আত্মসমর্পণকারী NLFT এবং ATTF-এর সদস্যরা হরতালের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতিকে নষ্ট করতে চাইছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। সোমবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আত্মসমর্পণকারী ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্সের আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা এক সাংবাদিক বৈঠক করে ১২ জুন থেকে ৭২ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে। কিন্তু কেন এই হরতাল! কিসের ভিত্তিতে এই হরতাল তাঁর স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠনের নেতারা। কি বলছে প্রসেনজিৎ দেববর্মা, কলেন্দ্র দেববর্মারা নিজের কানে শুনুন

এরা ঠিক কি চাইছে তা কিন্তু স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। কিন্তু যা করলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের এডিসি এলাকা, অর্থাৎ পাহাড়ে অশান্তির বীজ বপন করতে চাইলেন। আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবার আগেই অশান্তির বাতাবণ সৃষ্টি করতে চাইছে এরা।

প্রসঙ্গত, মূলস্রোতে ফিরে আসার পর তাঁদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন অমীমাংসিত দাবিদাওয়া পূরণ এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই হরতালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এখান থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, অলোচনার পথ ছেড়ে হরতাল কেন! শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের রুটি রুজি নিয়ে টানাটানি কেন? উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার ও ত্রিপুরা সরকারের সাথে NLFT ও ATTF-এর একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

আত্মসমর্পণকারী নেতাদের অভিযোগ, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় দুই বছর পার হতে চললেও এর মূল শর্ত ও পুনর্বাসন প্যাকেজগুলো এখনও কার্যকর করা হয়নি। প্রাক্তন জঙ্গিদের পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ২৫০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ বরাদ্দ করার কথা ছিল। যা এখন ও লাল ফিতার ফাঁসে আটকে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাবে ইতিমধ্যে তাদের ৮ জন আত্মসমর্পণকারী সদস্য মারা গেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

NLFT ও ATTF-এর আত্মসমর্পণকারী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে যেকোনও সংগঠনের আত্মসমর্পণের পর সাধারণত ৬ মাসের মধ্যে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হতো। তবে বর্তমান চুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতর গুলোতে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিন্তু আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠনের দাবি আর সরকারি তথ্যের মধ্যে অনেক টা ফারাক। তথ্য বলছে আত্মসমর্পণকারীদের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার একাধিক উন্নয়ন মূলক কাজ ইতিমধ্যে করেছে এবং করছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৫ তারিখ আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ডাক দিয়েও তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে আত্মসমর্পণকারী গেরিলাদের সংগঠন ‘ত্রিপুরা গেরিলা প্রত্যাবর্তিত দাবি কমিটি’ ওরফে TGRDC । ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার সঙ্গে বৈঠকের পর এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *