আগরতলা: বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এবার এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে সরব হল কংগ্রেস। স্মার্ট মিটার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাল। তাদের মিছিল থেকে উঠল মাশুল বৃদ্ধি প্রত্যাহার ও উন্নত পরিষেবার জোরালো দাবি। ভিলেজ কমিটি ভোটের আগে জনমুখী ইস্যুতে বৃদ্ধি পেল রাজনৈতিক তৎপরতা।
আগরতলায় বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ের সামনে সোমবার সদর জেলা কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবার অব্যবস্থা, স্মার্ট মিটার নিয়ে জনঅসন্তোষ, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি সংগঠিত করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, স্মার্ট মিটার চালুর ফলে সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবার মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং পরিষেবার মানোন্নয়নের দাবিও জানানো হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী সহ অন্যান্য নেতা কর্মী সমর্থক। সরকারের বিদ্যুৎ নীতির সমালোচনা করে জনস্বার্থে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এক্ষেত্রে নিজ ভাষণে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের পাশাপাশি রাজ্যের প্রাক্তন বাম সরকারের সমালোচনা করলেন প্রবীর চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন:
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, এই আন্দোলন কি শুধুই বিদ্যুৎ সমস্যাকে কেন্দ্র করে, নাকি এর পেছনে রয়েছে আসন্ন পুর ভোট ও ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের সাংগঠনিক প্রস্তুতি? প্রাসঙ্গিকভাবে কয়েকটি প্রশ্নও সামনে আসছে,জনস্বার্থের ইস্যুকে সামনে রেখে কি কংগ্রেস ভোটমুখী জনসংযোগ বাড়াতে চাইছে? পুর ভোট ও ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে কি তৃণমূল স্তরে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করার কৌশল এটি? বিদ্যুৎ, মূল্যবৃদ্ধি ও পরিষেবা সংক্রান্ত ইস্যুগুলিকে হাতিয়ার করে কি বিরোধী রাজনীতির নতুন মঞ্চ তৈরি করতে চাইছে কংগ্রেস?
এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে বিদ্যুৎ ইস্যুতে কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনা উসকে দিয়েছে, তা বলাই যায়।
