তেলিয়ামুড়া দশমীঘাট থেকে বাইশঘড়িয়া যাওয়ার রাস্তার বেহাল দশা দেখেও নির্বিকার প্রশাসন! বাড়ছে ক্ষোভ

বাইশঘড়িয়া সড়কের বেহাল দশা

editorvanguard
2 Min Read
বৃ্ষ্টির জেরে বেহাল রাস্তার পরিস্থিতি

তেলিয়ামুড়া: দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল দশা কৃষ্ণপুর বিধানসভার দক্ষিণ কৃষ্ণপুর পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিয়ামুড়া দশমীঘাট থেকে বাইশঘড়িয়া যাওয়ার রাস্তার। সবকিছু দেখেও প্রশাসন ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাতায়াতকারীদের মধ্যে।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্ত হয়েছিল। বৃষ্টির জলে তা ছোটখাট পুকুরে পরিণত হয়েছে। আর তার মধ্যেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছেন সাধারণ মানুষ। যাতায়াত করছে বাইক, ছোট-বড় গাড়ি। প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহারকারী স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীবাহী যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বর্ষার মরশুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বহু মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ। অনেকের কটাক্ষ, এটি রাস্তা নাকি কৃত্রিম হ্রদ, তা বোঝাই দায়!

আরও পড়ুন: 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে যখন উন্নয়নের জোয়ার চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তখন তেলিয়ামুড়া দশমীঘাট থেকে বাইশঘড়িয়া যাওয়ার রাস্তার এই করুণ দশা নিয়ে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যেন কোনও মাথাব্যথাই নেই। বারবার দরবার করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ২০২০ সালে রাস্তা তৈরির সময় থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। যে ঠিকাদার কাজ করেছিল তার গাফিলতির জন্যই এই পরিস্থিতি।

রাস্তার বেহাল দশার জন্য বর্ষাকালে প্রচণ্ড সমস্যা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। ওই এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোয়াতে হয় মানুষকে। জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসন, সবাই সবকিছু দেখেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ এক যাতায়াতকারী যুবকের। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইলেও ভোট শেষ হতেই যেন সব প্রতিশ্রুতি উধাও হয়ে গেছে।

তাঁদের প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিদের নজর কি শুধুই ভোটের সময় সীমাবদ্ধ? নাকি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন আর তাঁদের কাছে কোনও গুরুত্বই বহন করে না? যদি একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের এমন দুরবস্থা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে, তাহলে উন্নয়নের দাবিগুলি কাগজ-কলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় তো? এখন দেখার, নিউজ ভ্যানগার্ডে এই সংবাদ প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন কিনা? নাকি বাইশঘড়িয়ার মানুষকে আরও একটি বর্ষাকাল একই দুর্ভোগ পোয়াতে হয়।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *