কমলপুর: কমলপুরের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে বিরাজ দেব আজ নিজের শিল্পপ্রতিভা দিয়ে সবার মন জয় করে নিচ্ছে। ডিয়ার ক্লাব সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বিরাজ বর্তমানে কমলপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। সংসারের আর্থিক অবস্থা খুব স্বচ্ছল না হলেও স্বপ্নের রঙে কোনও ঘাটতি নেই তার। বাবা বিশ্বজিৎ দেব গাড়ি চালিয়ে সংসার চালান। সেই সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বিরাজ গত চার বছর ধরে রং-তুলি হাতে সৃষ্টি করে চলেছে একের পর এক অনন্য শিল্পকর্ম। ফেলে দেওয়া জিনিস, পরিত্যক্ত সামগ্রী কিংবা পাথরের টুকরো, সবকিছুকেই সে নিজের সৃজনশীলতার স্পর্শে নতুন রূপ দিচ্ছে।
কাঁঠাল পাতায় ত্রিপুরা সুন্দরীর মুখমণ্ডল, পাথরে প্রজাপতি, কালীঘাটের কালী , বাঁশের ডালায় দুর্গার প্রতিচ্ছবি, মাটির মূর্তি, নারীদের অলংকার, বিয়ের মুকুট-মালা, পাঞ্জাবি ও ছাতার নকশা তার শিল্পের পরিধি যেন ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। ছবি আঁকা থেকে শুরু করে নান্দনিক ঘরসজ্জার সামগ্রী তৈরিতেও রয়েছে তার দক্ষতার ছাপ। যেকোনও পরিত্যক্ত কিংবা অবাঞ্চিত সামগ্রীকে নতুন রূপ দেওয়া তার পছন্দ বলে জানালো কিশোর শিল্পী বিরাজ।
ছোটবেলায় ফুলছড়ির শিল্পী শিবব্রত ঘোষের কাছে সিক্সথ ইয়ার পর্যন্ত শিল্পচর্চা করে বিরাজ। এরপর নিজের চেষ্টায় এবং অদম্য আগ্রহে এগিয়ে চলেছে সৃজনের পথে। তার তৈরি কিছু সামগ্রী বিক্রিও হচ্ছে, যা তাকে আরও উৎসাহ জোগাচ্ছে।
ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আর্ট শিক্ষক হয়ে শিশুদের শিল্পশিক্ষা দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিরাজ। তার বিশ্বাস, শিল্প মানুষের মনকে সুন্দর করে। কমলপুরের এই তরুণ শিল্পীর আবেদন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ পাশে দাঁড়ালে তার প্রতিভা আরও বিকশিত হবে। কারণ প্রতিভার আলো একদিন না একদিন সব বাধা অতিক্রম করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
