বিশালগড়: মানবতা কি হারিয়ে যাচ্ছে ? বিশালগড়ের রঘুনাথপুরের তেবারিয়ার একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে সেই প্রশ্নই উঠছে। এমন একটা ঘটনা যা নাড়িয়ে দিচ্ছে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের বিবেককে। যে বাবা সন্তানকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন, সেই বাবাকেই গত সাত মাস ধরে একটি টিনের ঘরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পিলারের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে ছিল কুলাঙ্গার ছেলে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
৭০ বছরের সুবল মিঞা চার সন্তানের জনক। জীবনের অধিকাংশ সময় কৃষিকাজ করে পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন। বয়সের ভারে আজ তিনি অকর্মক্ষম। অভিযোগ, এই অবস্থাতেই স্ত্রী ও সন্তানদের অবহেলার শিকার হন তিনি। নিজের একটি জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নির্যাতন। এমনটাই জানালেন এই বৃদ্ধ। স্থানীয়দের দাবি, জমি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাংকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে প্রচার করে ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল।
সুবল মিঞার অভিযোগ, সময়মতো খাবার দেওয়া হত না। পরিবারের ইচ্ছা হলে খাবার মিলত, না হলে অনাহারেই থাকতে হতো। সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে ঈদের দিন। যখন চারদিকে উৎসবের আনন্দ, নতুন পোশাক আর নামাজের প্রস্তুতি, তখনও বৃদ্ধ বাবার ঠিকানা ছিল সেই বন্দিদশার ঘর।
প্রশ্ন উঠছে, একজন বৃদ্ধ বাবাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা কি কোনও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য? জমির জন্য একজন সন্তান কতটা নির্মম হতে পারে? একজন মায়ের চোখের সামনেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে পারিবারিক মূল্যবোধ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?
তবে এই বৃদ্ধের স্ত্রী কিন্তু ভিন্ন কথা শোনালেন। সুবল মিয়ার আতঙ্কে পরিবারের সবাই আতঙ্কগ্রস্থ বলে জানালেন তাঁর স্ত্রী।
এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে বিশালগড় থানার এসআই সুবীর সাহার নেতৃত্বে পুলিশ কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুবল মিঞাকে উদ্ধার করেন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল মিঞা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। সুবিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন সুবল মিঞাও।
