এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুষি! সোনারপুরে নিহত কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়

সোনারপুরে আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

editorvanguard
3 Min Read
সোনারপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সোনারপুর: ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) ফল ঘোষণার প্রায় তিন সপ্তাহ পর শনিবার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাস্তায় নামেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আর শুরুতেই হল অশান্তি। ভোট-পরবর্তী হিংসায় খুন হওয়া দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে ঢোকার মুখে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি। এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুষি খেলেন। কলকাতায় ফেরার পর প্রথমে তাঁকে ইস্টার্ন বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, সেখানে চিকিৎসা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে মিন্টো পার্কের একটি নার্সিংহোমে অভিষেককে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। (News Vanguard)

তৃণমূলের অভিযোগ, অভিষেক যখন সোনারপুর (Sonarpur) যাচ্ছিলেন তখন পাটুলি থেকে কামরাবাদ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় কালো পতাকা হাতে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন এক শ্রেণীর মানুষ। এর জেরে চার চাকার গাড়ি ছেড়ে বাইকে চড়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যান অভিষেক। তখন তাঁকে ঘিরে ধরেন অনেক মানুষ৷ ভিড়ের মধ্যে তাঁকে ঘিরে শুরু হয় তুমুল ধস্তাধস্তি। অভিষেককে এলোপাথাড়ি চড়-কিল-ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ। চলে বেধড়ক মারধর৷ ছিঁড়ে যায় অভিষেকের দামী ব্যান্ডের জামা, ভেঙে যায় দামী চশমা৷ মারধরের সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ও জুতো ছোঁড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেক মহিলাও ছিলেন। (News Vanguard)

শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের থেকে বাঁচতে অভিষেক মাথায় ক্রিকেট খেলায় ব্যবহৃত হেলমেট পড়তে হয়। তারপরও ছাড়েনি বিক্ষোভকারীরা। একের পর এক তাঁকে লক্ষ্য করে উড়ে আসে পচা ডিম, ইট, জুতো৷ তারপরও ক্ষিপ্ত বিক্ষোভকারীরা সরাসরি হাত তোলেন অভিষেকের উপর৷ রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় তাঁকে৷ ঝাঁটা দিয়ে মারারও চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে অভিষেকের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ কর্মীরা। কোনও রকমে ভোট-পরবর্তী হিংসায় খুন হওয়া দলীয় কর্মীর বাড়িতে ঢুকে পড়েন অভিষেক। সেখান থেকে একরাশ ক্ষোভ উগরে বলেন, “নির্লজ্জ দু’কান কাটার মতো টিভির পর্দায় টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল৷ এরা আমাদের প্রাণে মারতে চায় ৷ আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে ৷ আমি জায়গা ছেড়ে যাব না ৷ যতক্ষণ বাহিনী না আসে, আমি যাব না৷ হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ৷ আমি আদালতের দ্বারস্থ হব।” পরে অবশ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে কলকাতার দিকে রওনা করিয়ে দেয়। (News Vanguard)

এদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি যুক্ত নয়। বিজেপি সংযম দেখিয়েছে বলেই তৃণমূলের নেতারা ঘর থেকে বেরোতে পারছেন। (News Vanguard)

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *