কৈলাসহর: কৈলাসহরে বন দপ্তরের কোটি কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় সংক্রান্ত প্রক্রিয়া বাতিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা গত ৬ জুন সাংবাদিক বৈঠক করে মহকুমা বন দপ্তরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনলাইন টেন্ডার বাধ্যতামূলক হলেও সেই নিয়ম মানা হয়নি।
এই অভিযোগ ওঠার চার দিনের মাথাতে বুধবার বন দপ্তরের আধিকারিক শুভম দাস জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াই বাতিল করা হয়েছে। আর বাতিলের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিধায়কের অভিযোগের কারণে নয়, বরং অংশগ্রহণকারী ১২ জন ঠিকাদারের নথিতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এখানেই উঠছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যদি সত্যিই সব আবেদনপত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলে বিধায়কের সাংবাদিক সম্মেলনের আগেই কেন বাতিলের নোটিশ প্রকাশ করা হয়নি? প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হয়েছিল? আর যদি সব নিয়ম মেনেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তাহলে অনলাইন টেন্ডারের পরিবর্তে সাপ্লাই অর্ডার আহ্বানের পথ কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল?
শুভম দাস দাবি করেছেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে সরকারি ওয়েবসাইট, সংবাদপত্র এবং অফিসের নোটিশ বোর্ডে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। অন্যদিকে বিধায়ক বিরজিত সিনহার অভিযোগ, নিয়মকে পাশ কাটিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। এখন প্রশ্ন একটাই, প্রক্রিয়া বাতিল কি শুধুই প্রযুক্তিগত কারণে, নাকি অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা? এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ।
